উদারতা
মানুষ বাড়ছে আর ছোট হচ্ছে পৃথিবী!
ঘটনা এখানেই শেষ নয়
ইলেক্ট্রিক বেড়ে বেড়ে যাচ্ছে জমির দাম
দেখছো না, একখণ্ড জমির জন্য বড় ভাইয়ের মাথা
কি অবলীলায় ফেটে দিচ্ছে আপন ছোট ভাই!
জমিসংক্রান্ত আরো হাজারো ঘটনা আছে
কিন্তু আসল ঘটনা হলো─
আমার অবাধ্য আঙুলের জন্য তোমার বুকে
কত বিশাল জায়গা ফেলে রেখেছ তুমি!
আহা! এই উপর্যুপরি টানাপোড়নের যুগে
পৃথিবীতে এত উদারতা আমি কোথাও দেখিনি!
পিতা
পিতার কবরের পাশে থামি। শিয়রে মহাকাল দাঁড়ায়ে থাকে।
স্মৃতির সমুদ্র সেচে দু'ফোঁটা জল তুলে আনি।
নিয়ম মেনে এভাবেই পুত্ররা একদিন পিতার পাশে দাঁড়ায়।
জীবন হলো মহাকালের শরীর থেকে খুবলে নেয়া এক টুকরো সময়,
তারপর কেবল বিলীন হওয়ার পালা...
ক্ষুধার্ত সিংহের মতো কিছুটা সময় দাবড়ে বেড়ানো ছাড়া
সুখ, দুঃখ, ঘুম, যৌনতার প্রত্যয়গুলো আকড়ে ধরা ছাড়া
জীবনকে মানুষ কতোটুকু স্থায়ী করে শুনি...
বিলীন হওয়ার আগে পিতারা পুত্রদের জন্য কিছু করে তবু
পিতার কবরের পাশে দাঁড়ানোর আগে সেটি বোঝা যায় না।
মা
আমার মৃত্যর পরও গোরস্তানের কাছে
বিকেল এসে দাঁড়াবে, সন্ধ্যা নামবে
পাশের মেঠো পথে হাটুরেরা হাট করে ফিরবে
গল্প করবে, হাসবে
রাত গভীর হবে
দূর থেকে আমার মা গোরস্তানের দিকে তাকাবে
তার চোখে ভেসে উঠবে নূর আলো, আবছায়া
আমার মৃত্যুর পরও খুব বৃষ্টি হবে
গোরস্তান ধুয়ে জল গড়িয়ে যাবে ডোবায়
ছোট মাছ যে দু'একটা উঠে আসবে না তা নয়
সারারাত বৃষ্টির শব্দে আমার মায়ের ঘুম হবে না
দরজা খুললেই গোরস্তান দেখা যাবে
ভেসে ভেসে মায়ের চোখ যাবে গোরস্তানে
আমার মৃত্যুর পরও কাঠফাটা দুপুর আসবে
কাঁঠাল গাছে ছায়ায় দাঁড়াবে ঘর্মাক্ত দেহ
অসহ্য গরমেও কেউ দেবে ভাতঘুম
আমার মায়ের গোসল-ই হবে না তখনো
তার দৃষ্টির সীমানায় তৃষ্ণার জল উঁকি দিয়ে যাবে
ভেতরে সমুদ্র রেখে পুড়ে যাবে চোখ
পুড়ে যাবে চোখ....
ভাইসা গেল
আমার মায়ের মন খারাপ
বৃষ্টি এলো
উঠোন জুড়ে ধানের মেলা
কে ভিজালো
হাসের ছানা বৃষ্টি জলে
ভাইসা গেল
বলতে মানা আমার মায়ের
মুখ শুকালো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
ভাইসা গেল সবটুকু জল
ভাইসা গেল
আমার মায়ের মন খারাপ
বিকেল হলো
পুকুর পাড়ে যায় না দেখা
হাসের ছানা
সারাটাদিন মন খারাপ
বলতে মানা
রাত্রী নামে মায়ের চোখে
টলোমলো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
মায়ের চোখে ছোট্ট পুকুর
ভাইসা গেল
আমার মায়ের মন খারাপ
সন্ধ্যা হলো
সারাদিনের ক্লন্তি বোধে
ঘুম হারালো
বাঁশবাগানের শনশনিতে
রাত পোহাল
পাখনা ভেজা বকের সারি
উইড়া গেল
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
মায়ের চোখে সবটুকু জল
ভাইসা গেল
চেনা
মানুষকে চিনবেন─সম্ভব
যারা চুপ করে আছে, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছে
টক শো করছে, স্লোগান দিচ্ছে
ব্যানার হাতে
কোপাচ্ছে, পালাচ্ছে, ধরা খাচ্ছে
ডাব বিক্রি করছে, হাসপাতালে যাচ্ছে, ফেসবুকে লিখেছে
চিনবেনই তো
খেয়াল করলেই চিনবেন─
অফিস করছে, বাজার করছে
সকালে দৌড়াচ্ছে
বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাচ্ছে, টিউশনি করছে
সহকর্মীকে চুমু খাচ্ছে, ডাক্তারি করছে
কবিতা লিখছে, পত্রিকা কিনছে
মানুষের দিকে ভালোভাবে তাকান
না চিনে উপায় নেই─
অসুস্থ থাকতে যে খোঁজ নেয়নি
আপনার মরে যাবার সময় কাছে এসে
ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে, নাক মুছছে
মৃত্যু দেখতে আসা লোকজনের ভিড় ঠেলে ঢুকছে
মরতে আর কতক্ষণ কানাঘুঁষা করছে
শহরের কথা ধরলে
পাশের রুমে মরে পড়ে আছেন জানলোই না!
মানুষ তো চিনবেনই
তখনই চিনবেন
যখন চিনে আর আপনার কোন কাজ নেই।
মানুষ বাড়ছে আর ছোট হচ্ছে পৃথিবী!
ঘটনা এখানেই শেষ নয়
ইলেক্ট্রিক বেড়ে বেড়ে যাচ্ছে জমির দাম
দেখছো না, একখণ্ড জমির জন্য বড় ভাইয়ের মাথা
কি অবলীলায় ফেটে দিচ্ছে আপন ছোট ভাই!
জমিসংক্রান্ত আরো হাজারো ঘটনা আছে
কিন্তু আসল ঘটনা হলো─
আমার অবাধ্য আঙুলের জন্য তোমার বুকে
কত বিশাল জায়গা ফেলে রেখেছ তুমি!
আহা! এই উপর্যুপরি টানাপোড়নের যুগে
পৃথিবীতে এত উদারতা আমি কোথাও দেখিনি!
পিতা
পিতার কবরের পাশে থামি। শিয়রে মহাকাল দাঁড়ায়ে থাকে।
স্মৃতির সমুদ্র সেচে দু'ফোঁটা জল তুলে আনি।
নিয়ম মেনে এভাবেই পুত্ররা একদিন পিতার পাশে দাঁড়ায়।
জীবন হলো মহাকালের শরীর থেকে খুবলে নেয়া এক টুকরো সময়,
তারপর কেবল বিলীন হওয়ার পালা...
ক্ষুধার্ত সিংহের মতো কিছুটা সময় দাবড়ে বেড়ানো ছাড়া
সুখ, দুঃখ, ঘুম, যৌনতার প্রত্যয়গুলো আকড়ে ধরা ছাড়া
জীবনকে মানুষ কতোটুকু স্থায়ী করে শুনি...
বিলীন হওয়ার আগে পিতারা পুত্রদের জন্য কিছু করে তবু
পিতার কবরের পাশে দাঁড়ানোর আগে সেটি বোঝা যায় না।
মা
আমার মৃত্যর পরও গোরস্তানের কাছে
বিকেল এসে দাঁড়াবে, সন্ধ্যা নামবে
পাশের মেঠো পথে হাটুরেরা হাট করে ফিরবে
গল্প করবে, হাসবে
রাত গভীর হবে
দূর থেকে আমার মা গোরস্তানের দিকে তাকাবে
তার চোখে ভেসে উঠবে নূর আলো, আবছায়া
আমার মৃত্যুর পরও খুব বৃষ্টি হবে
গোরস্তান ধুয়ে জল গড়িয়ে যাবে ডোবায়
ছোট মাছ যে দু'একটা উঠে আসবে না তা নয়
সারারাত বৃষ্টির শব্দে আমার মায়ের ঘুম হবে না
দরজা খুললেই গোরস্তান দেখা যাবে
ভেসে ভেসে মায়ের চোখ যাবে গোরস্তানে
আমার মৃত্যুর পরও কাঠফাটা দুপুর আসবে
কাঁঠাল গাছে ছায়ায় দাঁড়াবে ঘর্মাক্ত দেহ
অসহ্য গরমেও কেউ দেবে ভাতঘুম
আমার মায়ের গোসল-ই হবে না তখনো
তার দৃষ্টির সীমানায় তৃষ্ণার জল উঁকি দিয়ে যাবে
ভেতরে সমুদ্র রেখে পুড়ে যাবে চোখ
পুড়ে যাবে চোখ....
ভাইসা গেল
আমার মায়ের মন খারাপ
বৃষ্টি এলো
উঠোন জুড়ে ধানের মেলা
কে ভিজালো
হাসের ছানা বৃষ্টি জলে
ভাইসা গেল
বলতে মানা আমার মায়ের
মুখ শুকালো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
ভাইসা গেল সবটুকু জল
ভাইসা গেল
আমার মায়ের মন খারাপ
বিকেল হলো
পুকুর পাড়ে যায় না দেখা
হাসের ছানা
সারাটাদিন মন খারাপ
বলতে মানা
রাত্রী নামে মায়ের চোখে
টলোমলো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
মায়ের চোখে ছোট্ট পুকুর
ভাইসা গেল
আমার মায়ের মন খারাপ
সন্ধ্যা হলো
সারাদিনের ক্লন্তি বোধে
ঘুম হারালো
বাঁশবাগানের শনশনিতে
রাত পোহাল
পাখনা ভেজা বকের সারি
উইড়া গেল
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
বৃষ্টি এলো
মায়ের চোখে সবটুকু জল
ভাইসা গেল
চেনা
মানুষকে চিনবেন─সম্ভব
যারা চুপ করে আছে, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছে
টক শো করছে, স্লোগান দিচ্ছে
ব্যানার হাতে
কোপাচ্ছে, পালাচ্ছে, ধরা খাচ্ছে
ডাব বিক্রি করছে, হাসপাতালে যাচ্ছে, ফেসবুকে লিখেছে
চিনবেনই তো
খেয়াল করলেই চিনবেন─
অফিস করছে, বাজার করছে
সকালে দৌড়াচ্ছে
বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাচ্ছে, টিউশনি করছে
সহকর্মীকে চুমু খাচ্ছে, ডাক্তারি করছে
কবিতা লিখছে, পত্রিকা কিনছে
মানুষের দিকে ভালোভাবে তাকান
না চিনে উপায় নেই─
অসুস্থ থাকতে যে খোঁজ নেয়নি
আপনার মরে যাবার সময় কাছে এসে
ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে, নাক মুছছে
মৃত্যু দেখতে আসা লোকজনের ভিড় ঠেলে ঢুকছে
মরতে আর কতক্ষণ কানাঘুঁষা করছে
শহরের কথা ধরলে
পাশের রুমে মরে পড়ে আছেন জানলোই না!
মানুষ তো চিনবেনই
তখনই চিনবেন
যখন চিনে আর আপনার কোন কাজ নেই।

0 মন্তব্যসমূহ