সাম্প্রতিক প্রকাশিত

10/recent/ticker-posts

‘বিভ্রান্ত জাদুকর’ কবিতাগ্রন্থ নিয়ে কবি ও কথাকার আনিফ রুবেদ

 

কবি হিরণ্য হারুন—এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ বিভ্রান্ত জাদুকর জাদুকরের খোঁজ করতে নেমেছিলাম, কে এই জাদুকর? এবং এও জেনে নেবার চেষ্টা করছিলাম, জাদুকর বিভ্রান্ত কেন?

জাদুকরের স্পষ্ট কোনো রূপ জানতে পারিনি বা জাদুকরের বিভ্রান্তিটা ঠিকঠাক ধরতে পারিনি তবু এই পরিক্রমটা আনন্দের ছিল। এবং ঠিকঠাক ধরতে না পেরে আভাস পাওয়া বা ধরতে পারার চেষ্টা দান করতে পারা কবিতার একটা বিশেষ গুণ বলেই আমার মনে হয়। কারণ, কবিতা কুয়াশার ভেতর দিয়ে কথা বলে; কবিতা অতিরিক্ত আলোর ভেতর দিয়ে কথা বলে; কবিতা সাদা মেশানো কালো দিয়ে বা কালো মেশানো সাদা দিয়ে কথা বলে।

কবি হিরণ্য হারুন—এর কবিতায় নরম এবং রহস্যময় একটা আবহ রয়েছে। এই আবহ পাঠককে আটকে রাখে কবিতার সাথে; মনকে সূক্ষ্ম ভাবের ভেতর দিয়ে চালনা করে।

হারুন—এর জাদুকর আসলে কে? এই প্রশ্নের খুব জটিল আর আবছা উত্তর ধরা দেয়; তা যতটা অনুভবযোগ্য ততটা প্রকাশযোগ্য নয়। প্রকাশযোগ্য নয় এই অর্থে যে, তা প্রকাশ করতে গেলে ভাবের ঘরে চুরি হয়ে যায়; ভাবটা প্রকাশের হাতে ঠিকঠাক ধরা দেয় না। তবু বলে দিতে চাই, জাদুকর বলতে আমার মনে হয়েছে এমন এক ঈশ্বরের কথা যাকে শুভ ধরা যায়; যার নিয়ন্ত্রণ তার নিজের হাতেই নেই এখন আর; ফলে তাকে বিভ্রান্ত হতে হয়। এ ঈশ্বর এমন এক ঈশ্বর যাকে সব বলা যায়। এ ঈশ্বর এমন এক ঈশ্বর যিনি কবির আরেক সত্তা। এই জাদুকর নামক সত্তাটি মানুষের কাজ কারবারে হতবাক এবং বিভ্রান্ত।

নরম-কোমল মাটিতে হেঁটে মানুষের কেন এতো ক্রোধ?

         (মানুষ : ১১)

চারিদিকে অন্ধকার সূর্যগ্রহণ

চলেছে অনিদ্রায় ভরা প্রাণ

ইয়েমেন, সোমালিয়ায় অদৃশ্য কালো পর্দা

চলছে অনুগুচ্ছ জীবন দুর্ভিক্ষ

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আরাকান কোথায়?

কোথায় ভিন্ন, কোথায় প্রাণের চলাচল

নাইজারের স্বর্ণ-ইউরেনিয়াম যাচ্ছে কোথায়?

জ্যামিতিক ভাগে ভাগ কোরে আফ্রিকায়

কারা নামালো দুর্ভিক্ষ?

কেন দিকহীন স্রোতস্বিনী যাচ্ছে শুকিয়ে

কে আকাশে মেশালো কয়লা!

            (মানবাধিকার কমিশন :১৫)

মানুষের প্রধান সমস্যা কী? কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয়, মানুষের প্রধান সমস্যা মানুষ। মানুষের প্রধান সমস্যার প্রধান সমাধান কী? এক্ষেত্রেও উত্তর, মানুষ। মানুষই মানুষের জন্য সবচে বড়ো সমস্যা এবং সমাধান যেমনভাবে করোনার টিকা কিন্তু করোনা ভাইরাস। মানুষ সমস্যা কেন?

পকেটে টাকা থাকলে চাঁদ দেখতে ভালো লাগে না, চাঁদে যেতে মন চায়!

পকেটে টাকা না থাকলে চাঁদ দেখতে ভালো লাগে না,

চাঁদ খেতে মন চায়।

               (সোমবার :২২)

আপনার ঘর কেউ তৈরি করে দেবেন না

কিন্তু কবর খুঁড়ে দিতে পারে সবাই

  (পৃথিবীর পানশালায় প্রেমিকাকে চুমু খান :৩৩)

মানুষ সমাধান কেন?

পৃথিবীভর্তি মানুষ

গিজগিজ করছে-অথচ-ব্যারি শার্পলেস একুশ শতকে দুবার নোবেল পুরস্কার পেলেন।

     (প্রতিবাদ : লাশ অথবা নাশ :৫৬)

হিরণ্য হারুন মানুষের প্রতি দারুণ এক মমতা রাখেন; এবং এই মমতা আছে বলেই রয়েছে বিরক্তিও, অভিযোগও। হিরণ্য হারুন—এর কবিতায় দারুণ রয়েছে কাব্য সুষমামাখা দার্শনিকতা। এই দার্শনিকতা তার কবিতাকে আলাদা এক গভীরতা দান করেছে।

উল্লেখ্য, কবি হিরণ্য হারুন—এর বিভ্রান্ত যাদুকর কাব্যগ্রন্থটি অনুপ্রাণন তরুণ লেখক পাণ্ডুলিপি প্রতিযোগিতা ২০২৫বিজয়ী। তার কবিতার সৌরভ ছড়িয়ে পড়ুক আরও আরও...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ